জোবাইরুল হাসান আরিফ

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপি

চট্টগ্রাম-৮ এর মানুষের ন্যায়সংগত অধিকার, টেকসই উন্নয়ন এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে জনগণের সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার। একটি স্বচ্ছ ও মানবিক সংসদীয় এলাকা গড়াই আমাদের লক্ষ্য।

গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

  • প্রতি সপ্তাহ/পাক্ষিকে গণশুনানি—মানুষ সমস্যা বলবে, আমরা শুনব, এবং সিদ্ধান্ত হবে উন্মুক্তভাবে।

  • বাজেট, প্রকল্প ও উন্নয়নের তথ্য সবার জানার ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।

  • প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা, ওপেন ডেটা ও সিটিজেন ওভারসাইট—এই তিন স্তম্ভ আমাদের সব কার্যক্রমে থাকবে।

  • জনতার অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত বৈধ নয়—এ নীতি রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সবার জন্য সুলভ স্বাস্থ্যসেবা

স্বল্প ব্যয়ে, সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।

  • সরকারি স্বাস্থ্যসেবা জনগণের হাতে পৌঁছে দিতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সুবিধা বৃদ্ধি।

  • চট্টগ্রাম মেডিকেলের একটি এক্সটেনশন ক্লিনিক স্থাপন—স্বল্প ব্যয়ে ও দ্রুত সেবা চট্টগ্রাম-৮ এর

    বাসিন্দারা পাবে অথবা এলাকার বাড়তি জনসংখ্যার প্রয়োজনে একটি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা—যা চট্টগ্রাম মহানগরবাসীর জন্যও উপকার বয়ে আনবে।

উন্নত জীবনমান, সহজলভ্য নাগরিক সুবিধা

নাগরিক সুবিধা, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের মাধ্যমে উন্নত ও সমতাভিত্তিক জীবনমান নিশ্চিত করা।

  • সাশ্রয়ী খরচে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন শহর, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ বাজার ও পানি সরবরাহ।

  • নিরাপত্তা বাড়াতে সিসিটিভি, কমিউনিটি পুলিশিং ও পথনিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

  • শহর–গ্রামের উন্নয়ন সমান গুরুত্বে; কোথাও অবহেলা নয়।

  • সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নত সাংস্কৃতিক অঞ্চল হিসেবে চট্টগ্রাম-৮ গড়ে তোলা।

সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম-৮ — আধুনিক, সুরক্ষিত আবাসন

পরিকল্পিত অবকাঠামো ও সাশ্রয়ী আবাসনের মাধ্যমে আধুনিক ও নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করা।

  • সাইড ড্রেনেজ, রাস্তা, পানি, গ্যাস ও নেটওয়ার্ক ঠিক রেখে পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা।

  • সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্বে সুবিধাসম্পন্ন আবাসিক অঞ্চল নির্মাণ।

  • আবাসিক এলাকায় ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করে সাশ্রয়ী বসবাস নিশ্চিত করা।

সর্বোচ্চ শিক্ষাহার, দক্ষ আগামী

মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা।

  • স্কুল–কলেজ–মাদ্রাসার শিক্ষার মান মূল্যায়ন ও মানোন্নয়ন করা।

  • শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মডেল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর।

  • উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দিতে শিক্ষাবৃত্তি, প্রান্তিক পরিবারের জন্য শিক্ষা সহায়তা ও ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা।

  • দরিদ্র ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বাজেট ও নীতি প্রণয়ন।

আঞ্চলিক অর্থনীতির শক্ত ভিত ও নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্য শহর

নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্য, শিল্প ও লজিস্টিকস উন্নয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনীতির শক্ত ভিত গড়ে তোলা।

  • শিল্পতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়ে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজার সংযোগ শক্তিশালী করা।

  • কর্ণফুলী নদীকেন্দ্রিক ইকো-ট্যুরিজম শিল্প গড়ে তোলা—নদীপথ, নৌ-সংস্কৃতি, স্থানীয় পণ্যকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনীতি সৃষ্টি।

  • কৃষি ও শিল্পপণ্যের দ্রুত পরিবহনের জন্য বিশেষায়িত লজিস্টিকস হাব গড়ে তোলা।

  • বোয়ালখালী–চান্দগাঁওকে কেন্দ্র করে নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্য শহর গড়ে তোলা।

  • কর্ণফুলী নদীকে ব্যবহার করে লাইট রিভার পোর্ট/নদী বন্দর স্থাপন।

  • পণ্য পরিবহন, কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড স্টোরেজ, পাইকারি বাজার—সব একসাথে এনে নতুন রিভার-ইকোনমিক জোন তৈরি। এতে পরিবহন খরচ কমবে, চট্টগ্রামের শহরভিত্তিক চাপ কমে বিকল্প বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে।

কর্মসংস্থানে বাস্তবসম্মত অগ্রগতি

দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা।

  • সরকারি উদ্যোগে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বৃদ্ধি, এবং গার্মেন্টস/ফ্যাক্টরি/শিল্পে তরুণদের চাকরি সংযোগ প্রোগ্রাম।

  • উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি অনুমোদন, লাইসেন্স ও ব্যবসায়িক সাপোর্ট দ্রুত ও ঝামেলাহীন করা।

  • দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়িয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী করা।

  • ক্ষুদ্র–মাঝারি ব্যবসার জন্য প্রণোদনা, ঋণ সুবিধা, প্রশিক্ষণ।

  • নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য “স্টার্ট-আপ সাপোর্ট সেল” গঠন।

  • বাজার, বাণিজ্যিক অঞ্চল ও হাট-বাজার আধুনিকীকরণ করে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করা।
  • প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষায়িত সংগঠন গড়ে তোলা, যার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রবাসীদের সমস্যাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করা যাবে।

যাতায়াতে গতি, উন্নয়নে ত্বরান্বিত উদ্যোগ

যাতায়াতে গতি আনতে সেতু, সড়ক ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার দ্রুত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার।

  • দ্রুততম সময়ে কালুরঘাট সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করা।

  • বোয়ালখালীর শহরমুখী যানবাহনের জন্য মোহরা / রাস্তার মাথায় সিএনজি ও টেম্পুস্ট্যান্ড স্থাপন করা।

  • বোয়ালখালী–মহানগর দ্রুতগামী গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা।

  • বন্ধ থাকা কমিউটার ট্রেন পুনরায় চালু করা ও রুট সম্প্রসারণ।

  • গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন: নতুন সড়ক নির্মাণ, পুরোনো সড়ক সংস্কার এবং পূর্ণ আধুনিকায়ন।

কেমন হবে চট্টগ্রাম-৮?

একটি উন্নত, নিরাপদ ও মানবিক সংসদীয় এলাকা গড়ার অঙ্গীকার

ভূমিকা

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) একটি সম্ভাবনাময় এলাকা হলেও আজও কিছু মৌলিক সমস্যার সম্মুখীন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবার ঘাটতি এখানকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আমি বিশ্বাস করি সঠিক নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই এলাকা বদলে দেওয়া সম্ভব।

আমাদের লক্ষ্য

আমাদের লক্ষ্য একটি শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধশালী চট্টগ্রাম-৮ গড়ে তোলা। যেখানে উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, নাগরিক সেবা হবে সহজলভ্য, এবং প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে।

অগ্রাধিকার ক্ষেত্রসমূহ

• শিক্ষা মান উন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষা অবকাঠামো
• স্বাস্থ্যসেবায় সহজ প্রবেশাধিকার ও আধুনিক চিকিৎসা
• কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন
• নিরাপদ সড়ক ও আধুনিক অবকাঠামো
• স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে প্রশাসন

জনগণের প্রতি অঙ্গীকার

আমি বিশ্বাস করি রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব।
চট্টগ্রাম-৮ এর প্রতিটি মানুষের সম্মান, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন আমার প্রধান বিবেচ্য।
আপনাদের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।

সমাপ্তি বক্তব্য

আপনাদের বিশ্বাস ও সমর্থন নিয়ে আমরা একটি নতুন চট্টগ্রাম-৮ গড়ে তুলতে পারি।
একটি এলাকা যেখানে উন্নয়ন হবে সবার জন্য,
এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ জীবন।